এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ‘জীবনেও এমন বিপদে পড়ি নাই। দুঃখের কথা না পারি কইতে, না পারি সইতে। সব সময় শরিক হইয়া কোরবানি দিছি। এই বছর পারি নাই। ছেলেডা মাংসের লাগি কানতাছে। হাতে টাকা নাই।
হের লাগি কম দামে কোরবানির মাংসের লাগি এহানে আইছি। জমিজমা বেইচা দালালের মাধ্যমে বিদেশ গিয়া ধরা খাইলাম। ৩ মাস পর আইয়া পড়লাম। অহন বেকার।
আমি কারো কাছে মাংস চাইতেও পারি না, কেউ দিতেও আসে নাই।’- কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরের মাতুবাড়ি মোড়ে গোশত কিনতে আসা এক অসহায় বাবা।
গতকাল ঈদের দিন মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরবানির মাংস কুড়িয়ে এনে তা আবারও কেজি দরে বিক্রি করছেন বাঞ্ছারামপুরের নিম্ন আয়ের মানুষেরা। কেজিপ্রতি এসব মাংসের দাম ৬৫০ টাকা হেঁকে বিক্রি করছিল ৬০০ টাকা দরে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিন বিকেলে বাঞ্ছারামপুরের মাতুরবাড়ির মোড়, চৌরাস্তা, উপজেলা ব্রিজসহ রূপসদী এলাকা ঘুরে মাংস বিক্রির এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
এদিন মাতুরবাড়ির মোড়ে বিকেল ৪টার দিকে কুড়িয়ে আনা মাংস বিক্রি শুরু হয়। এর মধ্যে কেউ মৌসুমি কসাই হিসেবে কাজ করে মাংস সংগ্রহ করে এনেছেন, আবার কেউ বা মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে পেয়েছেন। পরে নিজেদের প্রয়োজন মতো রেখে বাকিটা বিক্রি করতে এনেছেন।
এ ক্ষেত্রে ভালো মানের মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা। আর তুলনামূলক বেশি চর্বিযুক্ত মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে। যা কিনছেন অনেকেই।
এক নারী ক্রেতা মুখে মাস্ক লাগিয়ে এসেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ক্রেতা বলেন, ‘স্বামী অসুস্থ। কোরবানি দেওয়া হয়নি, তাই মাংস কিনতে আসছিলাম। গত বছর ৭ জনে মিলে শরিক হয়েছিলাম। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে ৭ কেজি কিনেছি।
মাংস বিক্রেতা আল আমিন হোমনা উপজেলা থেকে বাঞ্ছারামপুর এসেছেন ১২ কেজি মাংস বিক্রি করতে। ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করে জানান, ঘরে ৫ কেজি রেখে বাকিটা বিক্রি করলাম। এই টাকায় সন্তানদের জন্য জামাকাপড়, বউয়ের শাড়ি কিনব। ঘরে ফ্রিজ নেই। এত মাংস দিয়ে কী করব?
তবে স্থান ও মাংসের মানভেদে দামের তারতম্যও দেখা গেছে। ওয়াই ব্রিজ এলাকার পথচারী পারাপার হওয়া সেতুতে বসে গরুর মাংস বিক্রি করছেন একদল মৌসুমি কসাই। হাড় থেকে আলাদা করা এসব মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা কেজি দরে। আর মাথার মাংস বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়।